আবদুল চাচা এই সময় বলে, এই বাড়ির কাচারিঘরে রাজার একটি ছবি রয়েছে, দেখবেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
কাচারিঘরের দিকে এগোয় অমি। দেয়ালে একটা বিরাট তৈলচিত্র। একটু আগে যে আইসক্রিম'অলার সঙ্গে অমি কথা বলছিল হুবহু সেই চেহারা। শুধু ছবির লোকটার পরনে রাজকীয় পোশাক।
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের সমগ্র ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষকে বিজ্ঞানসম্মত বিচার-বিশ্লেষণে সচেতন করে তুলতে সাহিত্যের ছোটগল্পেরও যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। মানুষ সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে নানা অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন থাকে। একমাত্র বিজ্ঞানই মানুষকে সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করতে শেখায়।
উদ্দীপকে কাচারিঘরের দেয়ালে থাকা একটি বিরাট তৈলচিত্রের কথা বলা হয়েছে। তৈলচিত্রের লোকটার পরনে ছিল রাজকীয় পোশাক এবং লোকটি দেখতে আইসক্রিমওয়ালার মতো। 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পেও তৈলচিত্রের প্রসঙ্গ এসেছে। এই তৈলচিত্রকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে গল্পের কাহিনি। গল্পে কুসংস্কারের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। নগেনের ভূতের ভয়কে পরাশর ডাক্তার অন্ধের মতো মেনে নেননি। বরং যুক্তি-তর্ক দিয়ে বিবেচনা করে কুসংস্কার ও ভুল ধারণা প্রমাণ করেছেন। কুসংস্কারে বিশ্বাসী নগেন মামার ছবিতে প্রণাম করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক শক পায়। যেটাকে সে ভূতের কাজ বলে মনে করেছে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পরাশর ডাক্তার যুক্তি দিয়ে, প্রমাণ দিয়ে নগেনের তৈলচিত্রের ভূতের ভ্রান্ত ধারণা ভাঙিয়ে দিয়েছেন।
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেনের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্নতার পরিচয় যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনই লেখক পরাশর ডাক্তারের যুক্তিবাদী মন ও বিজ্ঞানমনষ্কতাও প্রকাশ পেয়েছে। কুসংস্কার দূরীভূত হয়ে গল্পে বিজ্ঞানের সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত দেয়ালের তৈলচিত্র গল্পের সামগ্রিকতা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?