Academy

আবদুল চাচা এই সময় বলে, এই বাড়ির কাচারিঘরে রাজার একটি ছবি রয়েছে, দেখবেন?

হ্যাঁ, অবশ্যই।

কাচারিঘরের দিকে এগোয় অমি। দেয়ালে একটা বিরাট তৈলচিত্র। একটু আগে যে আইসক্রিম'অলার সঙ্গে অমি কথা বলছিল হুবহু সেই চেহারা। শুধু ছবির লোকটার পরনে রাজকীয় পোশাক।

"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের সমগ্র ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।" -মন্তব্যটি বিচার কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 3 months ago | Updated: 3 months ago
Updated: 3 months ago
Ans :

"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের সমগ্র ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষকে বিজ্ঞানসম্মত বিচার-বিশ্লেষণে সচেতন করে তুলতে সাহিত্যের ছোটগল্পেরও যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। মানুষ সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে নানা অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন থাকে। একমাত্র বিজ্ঞানই মানুষকে সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করতে শেখায়।

উদ্দীপকে কাচারিঘরের দেয়ালে থাকা একটি বিরাট তৈলচিত্রের কথা বলা হয়েছে। তৈলচিত্রের লোকটার পরনে ছিল রাজকীয় পোশাক এবং লোকটি দেখতে আইসক্রিমওয়ালার মতো। 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পেও তৈলচিত্রের প্রসঙ্গ এসেছে। এই তৈলচিত্রকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে গল্পের কাহিনি। গল্পে কুসংস্কারের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। নগেনের ভূতের ভয়কে পরাশর ডাক্তার অন্ধের মতো মেনে নেননি। বরং যুক্তি-তর্ক দিয়ে বিবেচনা করে কুসংস্কার ও ভুল ধারণা প্রমাণ করেছেন। কুসংস্কারে বিশ্বাসী নগেন মামার ছবিতে প্রণাম করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক শক পায়। যেটাকে সে ভূতের কাজ বলে মনে করেছে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পরাশর ডাক্তার যুক্তি দিয়ে, প্রমাণ দিয়ে নগেনের তৈলচিত্রের ভূতের ভ্রান্ত ধারণা ভাঙিয়ে দিয়েছেন।

'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেনের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্নতার পরিচয় যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনই লেখক পরাশর ডাক্তারের যুক্তিবাদী মন ও বিজ্ঞানমনষ্কতাও প্রকাশ পেয়েছে। কুসংস্কার দূরীভূত হয়ে গল্পে বিজ্ঞানের সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত দেয়ালের তৈলচিত্র গল্পের সামগ্রিকতা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

3 months ago

সাহিত্য কনিকা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

অশরীরী শক্তির প্রতি অন্ধবিশ্বাসের কারণে পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন।

'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেন ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে। মৃত ব্যক্তির আত্মা ভূতে পরিণত হয় এরকম বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত আছে বলেই নগেন বৈদ্যুতিক শককে ভূতের কাজ বলে বিশ্বাস করেছে। পরাশর ডাক্তার নগেনের কাছে ঘটনাটি শুনে বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিতর্কের আশ্রয়ে সমাধানের জন্য ভাবতে থাকলেন। শেষে দেখলেন যে, তৈলচিত্রটি রুপার ফ্রেমে আটকানো এবং তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে এরূপ ঘটেছে। বিষয়টি তিনি নগেনকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। নগেন বুঝতে পারল এবং তার ভূতে বিশ্বাস থাকল না। নগেরে এ ধরনের বিশ্বাস ও বোকামির জন্য তাকে পরাশর ডাক্তার ভর্ৎসনা করলেন।

উদ্দীপকের সাহানা এবং 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেন উভয়ের মধ্যে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।

মানুষ শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে বিজ্ঞানসম্মত বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারে না। তারা বংশপরম্পরায় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে সহজে গ্রহণ করে থাকে।

'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেন মামার তৈলচিত্রকে ভূত বলে ভেবেছে। পরে তার ভুল ভেঙেছে। সেটি যে বিদ্যুতের শক তাসে বুঝেছে পরাশর ডাক্তারের কথায়। অন্যদিকে উদ্দীপকে সাহানা মাঠে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে এবং মামার কথামতো বিশ্বাস করে সে আলো হচ্ছে ভূতের আলো। উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের বিশেষ মিলটি হলো সাহানা ও নগেন উভয়েরই ভূতে বিশ্বাস রয়েছে। ভূতের কথা মনে করে তারা উভয়েই আঁতকে উঠেছে। তারা কেউই বিজ্ঞানসম্মত চিন্তা করেনি।

হ্যাঁ, রফিক সাহেব আর 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায়।

অনেক আগে মানুষ অজ্ঞতার অন্ধকারে বসবাস করত! অনেক কিছুকেই না বুঝে ভূত বলে মনে করত। ভূতে বিশ্বাস এখন আর মানুষের নেই। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান সবচেয়ে বেশি।

উদ্দীপকে রফিক সাহেব তার ভাগনি সাহানাকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে যান। সেখানে সাহানা রাতের বেলা খোলা মাঠে হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে। বিষয়টি নতুন বলে সাহানা ভয় পেয়ে যায়। মামা বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছেন যে, সেটি ভূতের কাজ নয়। মাটির একপ্রকার গ্যাস যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেন তার মামার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তৈলচিত্রের ওপর হাত রাখতে গিয়ে বিদ্যুতের শককে ভূত ভেবে ভয় পায়। পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিতর্কের মানুষ বলে শেষে বুঝতে পারলেন যে, তৈলচিত্রটি রূপার ফ্রেমে আটকানো এবং তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে এরূপ ঘটেছে। বিষয়টি তিনি নগেনকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। নগেন বুঝতে পারল এবং তার ভূতে বিশ্বাস দূর হলো।

রফিক সাহেব ও পরাশর ডাক্তার ব্যাখ্যা দিয়ে সাহানা ও নগেনকে বোঝাতে সক্ষম হন যে ভূত বলে কিছুই নেই। তাদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় উভয়েই আধুনিক মানসিকতার অধিকারী।

পরাশর 'ডাক্তার নগেনকে আগে থেকে চিনতেন বলেই তিনি বিশ্বাস করলেন যে, নগেন মিথ্যে বানোয়াট গল্প শোনানোর ছেলে নয়।

পরাশর ডাক্তার দুই মাস আগে নগেনের মামার শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণ রাখতে গিয়ে নগেনকে দেখেন। তখন নগেন হাসিখুশি মোটাসোটা তেল চকচকে ছিল। কিন্তু বর্তমানে তার অবস্থা খুব কাহিল। চামড়া পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে, মুখে হাসির চিহ্নটুকুও নেই। চাউনি উদ্‌ভ্রান্ত, কথা বলার ভঙ্গিও খাপছাড়া। তাই নগেন যখন চমকপ্রদ অবিশ্বাস্য কাহিনি পরাশর ডাক্তারকে শোনায় তখন ডাক্তার চিন্তা করেন কিছু একটা অবশ্যই ঘটেছে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন নগেন মিথ্যে বানোয়াট গল্প শোনানোর ছেলে নয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...